ঈশ্বর উপাসনা

ঈশ্বর উপাসনা

   রশিদ আহমেদ


যুদ্ধের আগে বাঙালী না খেয়ে মরত আর যুদ্ধের পর এখন বাঙালী খেয়ে মরছে!
পাশের বাসায় হঠাৎ মহিলাকণ্ঠে গগনবিদারী চিৎকার শুনে খাওয়া থেকে ভুলবশত হাত না ধুয়েই দৌড়ে গিয়ে দেখি; বিশালদেহের মালিক শফিক সাহেব উদরসহ উনাকে দেখা যায় একটা জলহস্তী। শফিক সাহেবের কথাবার্তা শুনলে লোকটার মাঝে একটু নাস্তিক্য পাওয়া যায়, স্পষ্ট করে বলতেও পারছি না যে, লোকটা আসলেই নাস্তিক কিনা (!) কারণ তিন বছর উনাকে বেশ কাছ থেকে দেখে আসছি কোনদিনও সহজবোধ্যভাবে বলেও নাই 'আমি ধর্ম বা প্রভুতে বিশ্বাসী নই!' তবে সুদূর গ্রাম থেকে পড়ালেখা করতে এসেছি বলে তার মায়া-আদর,স্নেহ আমার প্রতি কম নয়। শফিক সাহেবের সাথে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বিষয়ে অনেক কথা হত, প্রয়োজনে সাড়াও পেতাম তবে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছি পড়ালেখার দিক দিয়ে আর সবচেয়ে বেশি মর্মাহত হয়েছি ধর্মীয় দিকে।
অনেক ইচ্ছে ছিল লোকটার ধর্মের প্রতি ছোড়া ভিত্তিহীন নাস্তি কথাগুলোর জবাব আর তিনি মিথ্যের উপর প্রমাণ করে বিশ্বাস করাতে যে, স্রষ্টা 'আল্লাহ' শাশ্বত। যখন আমরা ছিলাম না-ছিল না আমাদের কোনও অস্তিত্ব তখন তিনি ছিলেন। আজ আমরা আমাদের অস্তিত্ব আছে তিনিও আছেন আর আমরা-আমাদের অস্তিত্ব, নাম-নিশানা অধিকন্তু আমাদের চিহ্ন পর্যন্তও যেদিন থাকবে না সেদিনও তিনি থাকবেন।
শফিক সাহেব মরার বেশ কিছুদিন আগ থেকে লক্ষ্য করছিলাম এই লোকটা কারো থেকে নেয়া জায়নামাজ নিয়ে পাঞ্জাবী টুপি পরে প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের সময় মসজিদে যাওয়া-আসা করতে।
যাই হোক;'মানুষ যত বড় নাস্তিকই হোক না কেন মৃত্যুভয়ে তাকে মসজিদ-মন্দিরে যেতেই হবে আর নয়তো সে ঘরের কোণে লোকচক্ষুর আড়ালে ঈশ্বর উপাসনা করবে!'

No comments