ঈদে মিলাদুন্নাবি, (নবীজির কোন জন্মদিন নেই!)
নবীজির কোন জন্মদিন নেই!
রশিদ আহমেদ
-১২ই রবিউল আউয়াল আসলে নবীজি (ছল্লাল্লাহু) এর জন্মদিন বলে মসজিদে মসজিদে হালুয়া-রুটি, খোরমা-খেজুর গরুকে যেমন গোয়ালে খড়কুটা দেয়া হয় তেমন ভাবে কৃত্রিমরূপী নবীপ্রেমিকদের খাইয়ে পবিত্র আল্লাহর ঘর মসজিদ নোংরা না করে বরং পথের বাঁকে বাঁকে-বাজারের চৌরাস্তার মোড়ে ডাণ্ডা মেরে পাতিলের কালি গালে-মুখে লাগিয়ে একটা ভাঙা হাড়ি গলায় ঝুলিয়ে দেয়া শ্রেয়। নবীজির জন্মদিবস কী সত্যিই ১২ই রবিউল আওয়াল? এর তারিখ নির্ধারণে কি কোন প্রকার মতানৈক্য নেই? কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা আছে এই ১২রবিউল আউয়ালের?
প্রশ্ন গুলোর উত্তর; জনৈক ইতিহাসজ্ঞদের বিভিন্ন বই-পুস্তক থেকে জানা যায় সর্বাধিক ঐক্য যে সমস্ত মতে তা হল ৯ই রবিউল আউয়াল তারপর ১১সর্বশেষ ১২, কিন্তু সুনিশ্চিত কোনো একটি দিনকে নির্ধারণ করতে পারেননি কোন ইতিহাসবিদ।
সর্বদাই তাদের সম্মতিতে লেগেছিল মতের অমিল যা স্পষ্ট করে নবীজির জন্মদিবস সম্পূর্ণ ধারণার উপর।
আর নবীজি (ছল্লাল্লাহু) এর মৃত্যুদিন অর্থাৎ তারিখ "সোমবার, ১২ই রবিউল আউয়াল, ১১তম হিজরী" সম্পর্কে কারো এতটুকু দ্বিমত পোষণ করার কোনো অবকাশ নেই সে এই তারিখে ভুল তো দূরের কথা মতানৈক্য আছে, বলবে।
এখন একটি কথা উত্থাপন হয়, ধরণায় প্রাপ্ত জন্মদিন ১২রবিউল আউয়াল যার সম্পর্কে সকলের মতানৈক্য আর মৃত্যু দিনও ১২/৩/
#একজন-মুসলিম ও মুমিন ব্যক্তির নিজেকে জানা ততটা জরুরী নয় যতটা রাসুল (ছল্লাল্লাহু) কে জানা জরুরী, যে ব্যক্তি মুহাম্মদ (ছল্লাল্লাহু) কে জানবে না সে ঈমান ও ইসলামকে কি করে জানবে? কেননা, প্রতিটি মুমিন ব্যক্তি তো তার ঈমানের অস্তিত্বের ক্ষেত্রে নবীর অস্তিত্বের উপর পরিপূর্ণ নির্ভরশীল এবং নবীর মুখাপেক্ষী। তাই, নবীর অস্তিত্বকে অস্বীকার বা উপেক্ষা করা হলে মুমিনের অন্তরে এক মুহূর্তের জন্যও আর ঈমানের অস্তিত্ব থাকবে না, থাকতে পারে না।
#আসুন-ঈদে-মিলাদুন-নব
পৃথিবীর প্রত্যেকটা জিনিসরই সূচনা আছে, এই জন্মদিন পালনের সূচনা জানা যায় ইতিহাসের পাতা থেকে, হযরত ঈসা (আলাইহিসালাম) যাকে উম্মতে মুহাম্মদীর বিশ্বাস অনুযায়ী বলা হয় "আল্লাহ, হযরত ঈসাকে যখন ইহুদীরা দলবদ্ধ হয়ে হত্যা করার জন্য তার গৃহের দিকে যায় তখন তাকে আকাশে তুলে নেন আর যিশুখ্রিস্ট তার চেহারা হযরত ঈসার রূপে রূপান্তর হয়!" যাই হোক হযরত ঈসাকে আল্লাহ তায়ালা তুলে নেয়ার পর থেকে তিনশত বছর পর ঈসার অনুসারী দাবীদাররা তার জন্মদিন উপলক্ষে অনুষ্ঠান করতো যাতে তারা হযরত ঈসার জীবনী, আদব-আখলাক ও তার একাত্মবাদের দাওয়াত সম্পর্কে আলোচনা করতো। কালের ঘূর্ণনে আজ সে আলোচনা যতটা হয় তার থেকে বেশি হয় মদ্যপান ও নষ্টনারীর সাথে অবৈধ উন্মাদনা। দুঃখ ও পরিতাপ করে বলতে হয় কিছু মুসলিম যারা ইহুদি-খ্রিষ্টান
সর্বশেষ একটা মেসেজ, ১২ই রবিউল আওয়ালকে যতটা রাসুলের জন্মদিন মনে করে আনন্দ-বিনোদন করা হয় তার থেকে বেশি রোনাজারি করা উচিত তাই অন্যদিনের থেকে এই দিনে দরূদ ও নামাজ, রোজা বেশি হওয়াটা একজন রাসুলপ্রেমিকের জন্য আবশ্যক। চেহারা-পোশাক, ব্যবহার, চলাফেরাসহ প্রত্যেকটি বিষয়ে রাসুলের আদর্শ অনুযায়ী হওয়া একজন মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক।
বিদ্রঃ ১২রবিউল আউয়াল আসায় এই নির্দিষ্ট দিনে হালুয়া-রুটি, খোরমা-খেজুর ইত্যাদি বিতরণ করা ও জশনে জলুস করা মিলাদ পড়া কেয়াম করা সম্পূর্ণ বিদআত। আর রাসুল (ছল্লাল্লাহু আলাইহিসাসালাম) বলেছেন, "و شر الامور محدثاتها و كل محدث بدعة و كل بدعة ضلالة و كل ضلالة فى النار"
অর্থঃ ধর্মীয় ব্যাপারে নব আবিষ্কারই হইতেছে নিকৃষ্টতম কাজ। এ জাতীয় প্রত্যেকটি নব আবিষ্কারই বিদআত এবং বিদআত মাত্রই গোমরাহী এবং প্রত্যেক গোমরাহীরই স্থান জাহান্নামে।
Post a Comment